• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
  • ইপেপার
Headline
চৌদ্দগ্রাম থানা দিন হাজারী পাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী রিয়াজ, নুরা, রোমান গং দের ছুরি আঘাতে মাছ ব্যবসায়ী মোখতার আহমদ ও সাংবাদিকের পরিবার আহাত ও রক্ত জখম। শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত “নির্বাচনী সহিংসতা, প্রশাসনিক সংকট ও তরুণ নেতৃত্বের অভাব: ফেনী–২ থেকে এক প্রার্থীর রাষ্ট্রচিন্তার আহ্বান সহকর্মীদের মুক্তির শীত বস্ত্র উপহার ঢাপরকাঠীতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ পঞ্চগড়-১: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা শেরপুর–হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় প্রায় ২৬ লাখ টাকার মদ ও মালামাল জব্দ ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার ছাড়া প্রহসনের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না : সাংবাদিকবৃন্দ তীব্র শীতে কমলগঞ্জে অসহায়দের মাঝে ইনসাফ সমাজকল্যাণ পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ। পুরান ঢাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে ইউরো ফেমাস ক্লাব

“নির্বাচনী সহিংসতা, প্রশাসনিক সংকট ও তরুণ নেতৃত্বের অভাব: ফেনী–২ থেকে এক প্রার্থীর রাষ্ট্রচিন্তার আহ্বান

Imran Mollik / ২
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উন্নতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—একে অপরকে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ চরম ঝুঁকির মধ্যে।

প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চাইলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বারবার ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে। সব দোষ প্রশাসনের ওপর চাপানো আমাদের এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, অথচ প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছি আমরাই।

দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ—নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে কার্যত দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া কঠিন। যদি নির্বাচন হয়ও, তা সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা অস্বীকার করা যায় না। এতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধের নতুন ফাঁদ তৈরি হতে পারে। শীতকালে গরমের চিন্তা করলে যেমন গরমকালে বরফ পড়ে না—তেমনি বাস্তবতা অস্বীকার করে সমাধান আসবে না।

এই সংকট মোকাবিলায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা দায়িত্বশীলভাবে বাড়াতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের দক্ষ ও সৎ প্রতিনিধিদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুধু প্রশাসনের রদবদল করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কমিশনের আচরণে পক্ষপাতিত্বের চিত্রও অনেক সময় দৃশ্যমান হচ্ছে।

একই সঙ্গে, কিছু পদপ্রার্থীর হুংকার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে জনগণ বিরক্ত ও বিব্রত হচ্ছে—যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
আমি ফেনী–২ সংসদীয় আসনের একজন প্রার্থী হিসেবে তরুণ প্রজন্মের ভোট প্রত্যাশা করি। কিন্তু তরুণরা আমাকে কেন ভোট দেবে—এই প্রশ্নের উত্তরে আমি কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, আমাদের এখন দরকার ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। নতুন প্রজন্মকে সঠিক নেতৃত্বের আলো দেখাতে না পারলে দেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির দিকে ধাবিত হবে। শিল্পকারখানা, গার্মেন্টসসহ উৎপাদন খাত ইতিমধ্যে সংকটে পড়েছে।

এই বাস্তবতায় তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তা গড়ে তুলতে হবে। পুরোনো, ভাঙাচোরা ব্যবস্থায় আর চলবে না—আমাদের দরকার আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর নেতৃত্ব। যেমন খেলোয়াড় বাছাইয়ে আমরা বিশ্বজুড়ে খুঁজে নিই সেরা প্রতিভা, তেমনি দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা মেধাবী ছাত্র-যুবকদের শিক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্বশীল অবস্থানে আনতে হবে।

আমি ফেনী–২ আসনে জনগণকে সঠিক প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে সংকোচবোধ করি, কারণ বিশ্বাসহীনতার পরিবেশে আমিও স্পষ্ট বার্তা দিতে পারছি না। এর ক্ষতি শুধু ব্যক্তি বা দল নয়—সমাজ ও রাষ্ট্র দুটোই ভোগ করছে।

রাষ্ট্র যদি আমার কর্ম ও যোগ্যতা বিবেচনায় আমাকে সামনের সারিতে কাজ করার সুযোগ দেয়, তবে আমি জনগণের প্রত্যাশিত ভূমিকা সততা ও দায়িত্বের সঙ্গে পালন করব। ফেনী–২ আসনে আমি এমন একটি মডেল শহর গড়ে তুলতে চাই, যা কল্পনারও বাইরে—ফেনী শহর হবে সারা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও উন্নত শহর।

তারিকুল ইসলাম ভূইয়া
চেয়ারম্যান
জনতার অধিকার পার্টি (পিআরপি)


More News Of This Category